ত্বক ও চুলের যত্নে অ্যালোভেরা কতটা কার্যকর

ত্বক ও চুলের যত্নে অ্যালোভেরা গুরুত্ব অন্যতম। ঘরোয়া রূপচর্চা এবং চুলের যত্নে আমরা অ্যালোভেরা ব্যবহার করে থাকি। এটি আপনার স্কিনের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করতে এবং স্কিনের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। আপনার চুলের রুক্ষতা এবং শুষ্কতা কমাতে অ্যালোভেরা অত্যন্ত কার্যকর একটি উপাদান।
ত্বক-ও-চুলের-যত্নে-অ্যালোভেরা-কতটা-কার্যকর


আমি আমার এ পোস্টের মাধ্যমে আপনাদেরকে অ্যালোভেরা বিভিন্ন গুণাগুণ নিয়ে আলোচনা করব।  অ্যালোভেরা । এর সঠিক ব্যবহারের নিয়ম এবং কি কি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে ,তার কিছু তথ্য আমি আপনাদের সাথে আমার এই পোস্টের মাধ্যমে শেয়ার করার চেষ্টা করব। ত্বক ও চুলের যত্নে অ্যালোভেরা কতটা কার্যকর আপনারা তা জানতে পারবেন

পেজ সূচিপত্রঃ ত্বক ও চুলের যত্নে অ্যালোভেরা কতটা কার্যকর

 ত্বক ও চুলের যত্নে অ্যালোভেরা কতটা কার্যকর

ত্বক ও চুলের যত্নে অ্যালোভেরা কতটা কার্যকর।প্রাকৃতিক রূপচর্চা হিসাবে অ্যালোভেরা অন্যতম উপাদান,অ্যালোভেরা ভেতরে থাকা উপাদান যেমন ভিটামিন এ ,সি ,ই ,বি কমপ্লেক্স এবং আরো রয়েছে খনিজ লবণ অ্যামিনো এসিড এই উপাদান গুলো আপনার স্ক্রিনে এবং চুলে জাদুর মত কাজ করে থাকে। এটি প্রাকৃতিক ময়শ্চারাইজার হিসাবে কাজ করে। অ্যালোভেরা জেল ত্বকের গভীর আদ্রতা বজায় রেখে স্কিন ময়শ্চারাইজার  করে এবং ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর করতে সাহায্য করে। অ্যালোভেরা ব্রণ ও ব্রনের দাগ দূর করতে বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

 এর অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল ও আন্টি ইনফ্লামেটরি এই উপাদান গুলো স্কিনের ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে যার ফলে আপনার স্কিনে ব্রণ ও ব্রণের দাগ থেকে মুক্তি পায়। সানবার্ন ও ত্বকের জ্বালাপোড়ার ক্ষেত্রে অ্যালোভেরা জেল আপনার স্কিনে লাগালে দ্রুত আরাম পাবেন এবং জ্বালাপোড়া কমে আসবে। বয়সের ছাপ কমাতে অ্যালোভেরা অত্যন্ত কার্যকর। এলোভেরা স্কিনে কোলাজেন বাড়াতে সাহায্য করে। খুশকি দূর করতেও এলোভেরা বেশ কার্যকর। চুলের অতিরিক্ত তৈলাক্ত ভাব নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। চুল ফাটা এবং চুল রুক্ষতা দূর করতে সাহায্য করে যার ফলে চুল নরম ও উজ্জ্বল দেখায়। তবে অ্যালোভেরা ত্বকে ও চুলে ব্যবহার করার আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করে নেওয়া ভালো।

অ্যালোভেরা কি এবং এর পুষ্টি উপাদান কি কি আছে?

অ্যালোভেরা যা বাংলায়  ঘৃতকুমারী নামে পরিচিত। এর ভিতর থাকা  উপাদান গুলোর জন্যই চুল ও ত্বকের পরিচর্যায় এটি বেশ জনপ্রিয়। অ্যালোভেরা বিভিন্ন ভিটামিনের সমৃদ্ধ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসাবেও কাজ করে থাকে। এর ভিতর যে ভিটামিন গুলো আছে সেগুলো হচ্ছে ভিটামিন এ বিটা ক্যারোটিন, সি এবং ই, ফলিক অ্যাসিড, খনিজ উপাদানের মধ্যে রয়েছে ক্যালসিয়াম, জিংক, ম্যাগনেসিয়াম , আয়রন, পটাশিয়াম, সোডিয়াম ,কপার ,ক্রোমিয়াম ,সেলেনিয়া এবং ম্যাঙ্গানিজ।


মানবদেহে প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড এর মধ্যে ১৮ থেকে ২০ টি অ্যামিনো অ্যাসিড অ্যালোভেরা পাওয়া যায়। অ্যালোভেরা তে আরো রয়েছে আটটি গুরুত্বপূর্ণ এনজয়ম। এতে রয়েছে ক্যাম্পো স্টেরল  মত ফ্যাটি অ্যাসিড এবং এন্টি ইনফ্লামেটরি যা আপনার বাতের ব্যথা এবং কোমরের ব্যথা কমাতেও সাহায্য করে। এটি আপনার শরীরের নতুন কোষ গঠনেও সাহায্য করে। এটা আরও রয়েছে স্যালিসিলিক অ্যাসিড যা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণসম্পন্ন হওয়ায় ত্বকের ব্রণ ও ইনফেকশন দূর করতে সাহায্য করে।

ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরা কতটা কার্যকর

ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরা অত্যন্ত কার্যকারী একটি উপাদান, অ্যালোভেরার উপাদান গুলোর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, পানি, ভিটামিন এ, সি ,ই ,বি ১২।  আরও রয়েছে অ্যামিনো অ্যাসিড এবং এনজাইম এর মত উপাদান, আপনার ত্বকের বিভিন্ন রকমের সমস্যার সমাধান করতে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতেও সাহায্য করে। অ্যালোভেরা প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসাবেও কাজ করে, যা স্কিন কে হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করে। ত্বকের শুষ্কতা ও খসখসে ভাব দূর করতে সাহায্য করে।স্কিনের অতিরিক্ত তৈলাক্ত ভাব দূর ব্রণ ও ইনফেকশনের মতো সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

 অ্যালোভেরাতে আছে স্যালিসিলিক অ্যাসিড এবং অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান যা ব্রণের জীবাণু ধ্বংস করতে এবং ব্রণের ফোলা ভাব কমাতে অত্যন্ত উপযোগী। রোদে পোড়া বা কালচে ভাব দূর করতে অ্যালোভেরা জেল মুখে লাগিয়ে রাখতে পারেন এতে কালচে ভাব কমে আসবে। অ্যালোভেরা থাকা ভিটামিন সি ,ই এবং বেটা কারোটিন তোকে কোলাজেন উৎপাদন করতে সাহায্য করে যার ফলে স্কিনে বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না। আপনার ত্বকের ছোটখাটো কাটা বা পোড়া  র‍্যাশের ক্ষত সারানোর জন্য অ্যালোভেরাব্যবহার করতে পারেন। অ্যালোভেরা সরাসরি মুখে লাগানোর আগে অবশ্যই আপনার অ্যালার্জি আছে কিনা সেটা আগের টেস্ট করে নিতে হবে। তার জন্য আগে আপনার হাতে লাগিয়ে দেখতে পারেন কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা যদি সমস্যা হয় তাহলে অবশ্যই অ্যালোভেরা লাগানো থেকে বিরত থাকবেন।

তৈলাক্ত ত্বকে অ্যালোভেরা কিভাবে ব্যবহার করব

তৈলাক্ত ত্বকের অ্যালোভেরা অত্যন্ত কার্যকর উপাদান, এটি আপনি ময়শ্চারাইজার হিসাবে ব্যবহার করতে পারে। তৈলাক্ত ত্বকে ভারি কোন ক্রিম ব্যবহার করার ফলে অনেক সময় ব্রণ এবং র‍্যাস এর মতো সমস্যা দেখা দেয়, এক্ষেত্রে এলোভেরা পাতা ব্লেন্ড করে রস বের করে সেটি আপনার স্কিনে লাগাতে পারেন। যা আপনার স্কিনের অতিরিক্ত তৈলাক্ত ভাব দূর করতে সাহায্য করবে, আবার আপনি অ্যালোভেরা জেল এর সাথে চার থেকে পাঁচ ফোটা লেবুর রস মিশিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন তারপরে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে আপনি সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিনবার এই প্যাকটি আপনার মুখে ব্যবহার করতে পারেন।


 অ্যালোভেরা জেল, শসা ও মধু সব উপাদান গুলো একসাথে মিশিয়ে আপনার মুখে এবং গলায় লাগিয়ে ৩০ মিনিটের মতো রেখে দিন তারপরে ধুয়ে ফেলুন, দেখবেন ত্বক গভীর থেকে পরিষ্কার হয়ে গেছে এবং উজ্জ্বল দেখাচ্ছে। ভালো রেজাল্ট পেতে এই পদ্ধতিটি সপ্তাহে অন্তত দুইবার ব্যবহার করতে পারেন। অ্যালোভেরার সাথে চালের গুড়া মিশিয়ে আপনার মুখে দুই থেকে তিন মিনিট মেসেজ করুন এটি স্ক্রব হিসাবে কাজ করবে যা আপনার মুখের ব্ল্যাকহেড এবং হোয়াইটহেড সমস্যা সমাধান করতে সাহায্য করবে। তবে অ্যালোভেরা গাছের পাতা কেটে কিছুক্ষণ খাড়া করে  রেখে দিন এর হলুদ রংয়ের তরল পদার্থটি বের পরে ভালো করে মুছেনে বা ধুয়ে নিন, না হলে হলুদ অংশটি আপনার স্ক্রিনে চুলকানি মতো সমস্যা হতে পারে।

ত্বক উজ্জ্বল করতে অ্যালোভেরা কতটা কার্যকর

ত্বক উজ্জ্বল এবং ফর্সা করতে অ্যালোভেরা অত্যন্ত কার্যকারী কারণ এ উপাদান অ্যালোসিন যা আপনার ত্বকের মেলানিন উৎপাদনে নিয়ন্ত্রণ করে, যার ফলে আপনার স্কিনের কালো দাগ দূর করতে সাহায্য করে এবং ত্বক উজ্জ্বল ও ফর্সা দেখায়। আপনি ত্বক উজ্জ্বল করতে অ্যালোভেরা দিয়ে ঘরোয়া পদ্ধতিতে যে প্যাকগুলো তৈরি করতে পারেন তা হল, অ্যালোভেরা সাথে এক চামচ খাঁটি মধু মিশিয়ে এই প্যাকটি আপনার মুখে ১৫ থেকে ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন,তারপর হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি সপ্তাহে অন্তত দুইবার ব্যবহার করতে পারেন। 

আবার আপনি অ্যালোভেরা হলুদ ও লেবুর রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করতে পারেন, এই প্যাকটি আপনি আপনার মুখে লাগিয়ে ১০ থেকে ১২ মিনিট রেখে দিন ,তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন ভালো ফল পেতে এটি রাতে ব্যবহার করা উত্তম ।অন্তত সপ্তাহে দুইবার এটি ব্যবহার করবেন। রোদে পোড়া দাগ দূর করতে যা করবেন, তার জন্য দুই চামচ এলোভেরা জেল এবং এক চামচ টমেটোর রস নিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করে নিন। এটি আপনার মুখে লাগিয়ে মেসেজ করুন, তারপর আপনার মুখে লাগিয়ে  ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন ভালো ফল পেতে সপ্তাহে তিনদিন এই মিশ্রণটি ব্যবহার করুন। টমেটো রস বা লেবুর রস দেওয়া প্যাক ব্যবহারের পর দিনের বেলা হলে অবশ্যই সানস্ক্রিম ব্যবহার করবেন।

চুলের যত্নে এলোভেরার ব্যবহার

ত্বকের পাশাপাশি চুলের যত্নে অ্যালোভেরার ব্যবহার অত্যন্ত কার্যকর। এটি আপনার চুল পড়া কমাতে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে, তার জন্য আপনাদেরকে যা করতে হবে,  আপনার প্রয়োজন মত অ্যালোভেরা জেল নিয়ে এবং দুই চামচ পেঁয়াজের রস মিশানো একটি মিশ্রণ ভালোমতো করে তৈরি করে নিন। এই উপাদানটি আপনার চুলের গোড়ায় ভালোমতো করে লাগিয়ে রাখুন ২০ থেকে ৩০ মিনিট তারপরে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। ভালো রেজাল্ট পেতে এই উপাদানটি সপ্তাহে অন্তত দুই দিন ব্যবহার করতে পারেন। অ্যালোভেরা খুশকি দূর করতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। কারণ অ্যালোভেরার   অ্যান্টি ফাঙ্গাল উপাদান এবং লেবুর রস সাইট্রিক এসিড মাথার ত্বকের চুলকানি ও খুশকি দূর করতে এটি কাজ করে।


 যেভাবে এটি ব্যবহার করবেন, প্রয়োজন মত অ্যালোভেরা জেল নিন এবং এক চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নেই এটি আপনার মাথার স্ক্যাল্পে লাগিয়ে পাঁচ মিনিটের মতো মেসেজ করুন, তারপর এটি ২০ মিনিটের মতো রেখে দিন। এবার শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন ভালো ফল পেতে সপ্তাহে অন্তত এক থেকে দুইবার এটি ব্যবহার করতে পারেন। অ্যালোভেরা আপনার চুল সিল্কি এবং মসৃণ করতে সাহায্য করে, এটি চুলের রুক্ষতা এবং শুষ্কতা দূর করে যার ফলে আপনার চুল ঝরঝরে এবং মসৃণ দেখায়। তার জন্য আপনি অ্যালোভেরা ,ক্যাস্টর অয়েল সাথে নারকেল তেল মিশিয়ে আপনার চুলের লাগিয়ে রাখুন ১০ থেকে ১৫ মিনিট তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। আবার আপনি টক দই এবং মধু মিশিয়ে অ্যালোভেরার সাথে প্যাক তৈরি করে নিতে পারেন এটি আপনার চুলের গোড়া মজবুত করতে এবং রুক্ষতা কমাতে সাহায্য করবে।

ত্বক ও চুলের যত্নে কিভাবে সঠিক নিয়মে এলোভেরা ব্যবহার করবেন

ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি এবং চুলের যত্নে সঠিক নিয়মে অ্যালোভেরা ব্যবহার করা অত্যন্ত প্রয়োজন হয়। অ্যালোভেরা আপনার স্কিনে যত্নে সুথিং জেল হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন। এটি ডেইলি মশ্চারাইজার হিসাবে বেশ কার্যকর। তার জন্য যা করবেন আগে আপনার ফেসটি ভালো কোন ফেসওয়াশ দিয়ে পরিষ্কার করে নিন। তারপর এই অ্যালোভেরা সুথিং জেল আপনার স্কিনে লাগিয়ে কিছুক্ষণ মেসেজ করুন তারপর রেখে দেন এতে আপনার স্কিন হাইড্রেট দেখাবে। এই সুথিং  জেল টি আপনার মুখে ভারি স্তর করে লাগিয়ে সারারাত রেখে দিন এতে আপনার স্ক্রিনের মৃত কোষ দূর করতে সাহায্য করবে এবং স্কিন উজ্জ্বল দেখা হবে। 

এটি আপনার মুখের সানবার্ন দূর করতে এবং রোদে পোড়া কালো ভাব দূর করতেও সাহায্য করবে। চুলের যত্নে হেয়ার প্যাক হিসাবে আপনি এই সুথিং  জেল ব্যবহার করতে পারেন তার জন্য যা করবেন নারকেল তেল ও ক্যাস্টর অয়েল এবং ভিটামিন ই ক্যাপসুল ভালো মতো মিশিয়ে আপনার  চুলের গোড়ায় এবং পুরো চুলে ভালোমতো মেসেজ করুন তারপর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। এতে করে আপনার চুল পড়া কমে আসবে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করবে। অ্যালোভেরা সুথিং  জেল আপনার কন্ডিশনার হিসেবেও কাজ করে  শ্যাম্পু করার পর ভেজা চুলে সুথিং জেল ব্যবহার করে পাঁচ মিনিট রেখে দিন তারপরে ধুয়ে ফেলুন।

অ্যালোভেরা ব্যবহারে যে সতর্কতা অবলম্বন করবেন

অ্যালোভেরা প্রাকৃতিক উপাদান হলেও, এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু সর্তকতা অবলম্বন করা দরকার। যেমন অ্যালোভেরা জেল ত্বকে সরাসরি ব্যবহার না করাই ভালো, কারন আপনার যদি এলার্জির সমস্যা থাকে সেক্ষেত্রে আগে প্যাচ টেস্ট করে নেওয়া উত্তম। তার জন্য যা করবেন সামান্য পরিমাণ অ্যালোভেরা নিয়ে আপনার হাতে লাগিয়ে রাখুন। দেখুন ২৪ ঘন্টার মধ্যে কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা যেমন চুলকানি বা লালচে ভাব যদি না হয় তাহলে এটা ব্যবহার করা আপনার জন্য নিরাপদ। আবার গাছ থেকে সরাসরি অ্যালোভেরা নিয়ে সেটি ব্যবহার করবেন না। 

 কারণ এর ভেতর থেকে এক হলুদ রং তরল বের হয় এটি এলার্জির মতো সমস্যাকে বহুগুনে বাড়িয়ে দেয়। তাই কিছুক্ষণ রেখে হলুদ রসটি বের হয়ে গেলে রসটি মুছে বা ভালো করে ধুয়ে তারপর অ্যালোভেরা ব্যবহার করতে পারেন। আপনার শরীরে বা স্কিনে কোথাও ক্ষত থাকলে অ্যালোভেরা সরাসরি সেখানে লাগাবেন না।  লেবু রস মিশানোর আগে বা অন্য কোন উপাদান অ্যালোভেরা মেশানোর আগে সঠিক অনুপাত বজায় রাখার চেষ্টা করুন। ডায়াবেটিস রোগীরা অ্যালোভেরা জুস খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। এবং কিডনি ও পেটের সমস্যায় যারা ভুগছেন তারাও অ্যালোভেরা জুস খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন।

উপসংহারঃত্বক ও চুলের যত্নে অ্যালোভেরা কতটা কার্যকর

ত্বক ও চুলের যত্নে অ্যালোভেরা কতটা কার্যকর, তার সামান্য কিছু ইনফরমেশন আমি আমার এই পোষ্টের মাধ্যমে আপনাদেরকে তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করেছি, আপনি চাইলে আরো বিভিন্ন রকম ভাবে অ্যালোভেরা প্যাক বানিয়ে আপনার স্কিনে এবং আপনার চুলের যত্ন নিতে পারেন। অ্যালোভেরা বহুগুণ সম্পূর্ণ এটি গাছ। এটি আমাদের অনেকের বাসাতে হয়ে থাকে। তবে এটি আপনার স্কিনে দেওয়ার আগে বা চুলে লাগানোর  আগে অবশ্যই আপনার স্কিনে এলার্জির সমস্যা আছে কিনা, সেটা আগে পরীক্ষা করে নিবেন এবং সবথেকে ভালো হওয়ায় আপনি যদি ভালো কোন ডারমাটোলজিস্ট এর পরামর্শ নিয়ে তারপরে এ প্যাকগুলো আপনার স্কিন বা চুলে লাগান।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

জেনোভা আইটি নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url