ভিসা কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা

 অনলাইনে লেনদেনের বর্তমান সময়ে ভিসা কার্ড অত্যন্ত জনপ্রিয়, বিদেশে ভ্রমণ বা ব্যবসা,ফ্রিল্যান্সের অর্থ গ্রহণ ও পরিশোধ করা , আন্তর্জাতিক কেনাকাটা ভিসা কার্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লেনদেনের মাধ্যমে। প্রতিদিন বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ মানুষ ভিসা কার্ড ব্যবহার করে। ভিসা কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন সহজ ও নিরাপদ। বাংলাদেশে এখন অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ব্যাংক ভিসা ডেবিট কার্ড,  ক্রেডিট কার্ড, প্রিপেড কার্ড দিয়ে থাকে।

আপনি যদি ভিসা কার্ড সম্বন্ধে জানতে চান ভিসা কার্ড কি? ভিসা কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা? ভিসা কার্ড কত প্রকার? ভিসা কার্ডের সুবিধা ও অসুবিধা ,ভিসা কার্ড কিভাবে করতে হয়? তার বিভিন্ন ইনফরমেশন আমি এই পোস্টে আপনাদেরকে দেব। 

পোস্ট সূচিপত্রঃ ভিসা কার্ড পাওয়ার যোগ্যত

ভিসা কার্ড কি

ভিসা কার্ড হল আন্তর্জাতিক ইলেকট্রনিক পেমেন্ট কার্ড যা ভিসা পেমেন্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিচালিত হয় ব্যাংক সরাসরি ভিসা কার্ড প্রদান করেনা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজস্ব গ্রাহকদের জন্য ভিসা নেটওয়ার্কের ভিসা কার্ড ইস্যু করে থাকে ভিসা কার্ড দিয়ে আপনি এটিএম থেকে টাকা উত্তোলন বিল পরিশোধ অনলাইন ও অফলাইনে কেনাকাটা আন্তর্জাতিক লেনদেন করতে পারবেন।

ভিসা কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা

ভিসা কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা সাধারণত ভিসা কার্ডের ধরন(ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেড)ও ব্যাংক নীতির উপর নির্ভর করে। ভিসা ডেভিড কার্ড পেতে হলে যে কোন ব্যাংকে একটি একাউন্ট খুলতে হবে। তবে ভিসা ক্রেডিট কার্ড পেতে আপনাকে বিভিন্ন ইনফরমেশন দিতে হবে যেমনঃ গ্রাহকের বয়স এবং ব্যাংকের বিভিন্ন শর্ত পূরণ করতে হবে।

ভিসা ডেবিট কার্ড এর জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র যেমনঃ পাসপোর্ট সাইজ ছবি, ব্যাংক একাউন্ট খোলা প্রাথমিক জমা, জাতীয় পরিচয় পত্র বা বৈধ পাসপোর্ট, বাংলাদেশে বৈধ নাগরিক এসব ইনফরমেশন দিতে হবে। ডেবিট কার্ডের জন্য সাধারণত ১৮ বছর বা তার বেশি হতে হবে তবে ব্যাংক ভেদে বিভিন্ন হতে পারে। ডেবিট কার্ডের জন্য ব্যাংক হিসাব সঞ্চয় বা চলিত থাকতে হবে।

সচরাচর প্রশ্ন

অনলাইনে ভিসা কার্ড করা যায়?

অনইনে করা যাই

ভিসা কিভাবে পাওয়া যায়?

অনলাইনে পাওয়া যাই

ভিসা কার্ড করতে কত টাকা লাগে?

টাকার উপর নিরভর করে

Visa card করতে কি কি লাগে?

ছবি লাগে

ভিসা করতে সাহায্য লাগে

হা লাগে

 

 ক্রেডিট কার্ডের জন্য নিয়মিত আয় উৎস থাকতে হবে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, টিআইএন, বেতন স্লিপ, ও অন্যান্য আয়ের প্রমাণপত্র লাগাতে হবে। প্রিপেইড কার্ড ক্ষেত্রে কিছু কিছু ব্যাংক একাউন্ট ছাড়া কার্ড ইস্যু করে থাকে আবেদনের পর ব্যাংক যাচাই-বাছাই করে যোগ্য মনে করলে ভিসা কার্ড ইস্যু করে। 

ভিসা কার্ড কত প্রকার

ভিসা কার্ড সুবিধা ও কার্যকারিতার উপর ভিত্তি করে তিন ভাগে বিভক্ত ভিসা ডেবিট কার্ড, ভিসা ক্রেডিট কার্ড, ভিসা প্রিপেইড কার্ড। 

ভিসা ডেভিড কার্ডঃ ভিসা ডেভিড কার্ড হল আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি টাকা ব্যবহার করতে পারবেন। লেনদেন কেনাকাটার সময় সঙ্গে সঙ্গে আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়া হবে শপিং মল, সুপার শপ,দোকানে পেমেন্ট,অনলাইন শপিং, এটিএম থেকে টাকা তোলা, মোবাইল রিচার্জ এবং  ইন্টারনেট  বিল পরিশোধ করতে পারবেন। ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী দেশ-বিদেশের ভিসা লোগোযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভিসা কার্ড পেমেন্ট করা যায়, ভিসা ডেবিট কার্ড ব্যবহারে অর্থ বহনে ঝামেলা থাকে না।

ভিসা ক্রেডিট কার্ডঃ ভিসা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে আপনি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নির্ধারিত পরিমাণ ক্রেডিট লিমিটেড থেকে টাকা ধার করে বিল পরিশোধ করা, অনলাইনে  কেনাকাটা ও লেনদেন করতে পারবেন। ক্রেডিট কার্ড আপনার ব্যাংক একাউন্ট থেকে সরাসরি টাকা ব্যবহার করে না, ব্যাংক আপনাকে নির্দিষ্ট পরিমাণে ঋণ দেয় এবং পরে নির্ধারিত সময়ে সেটা পরিশোধ করতে হয়।

 হোটেল বুকিং, বিমানের টিকিট ভাড়া, দেশ-বিদেশ ভ্রমণ, অনলাইন শপিং, সুপার শপ, শপিং মল ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা হয়। জরুরী প্রয়োজনে ক্রেডিট কার্ড  ব্যবহার করা হয় অনেক সময় ক্যাশব্যাক রিওয়ার্ড পয়েন্ট ও বিশেষ  ছাড়ের সুবিধা থাকে।

ভিসা প্রিপেইড কার্ডঃ এই কার্ডটি হল প্রি-লোডেড পেমেন্ট কার্ড। ভিসা প্রিপেইড কার্ড ব্যবহারের আগে কিছু নির্দিষ্ট পরিমাণে টাকা জমা করতে হয় কার্ডে যত টাকা জমা থাকবে ততটুকুই শুধু খরচ করা যায়। এই কার্ডের সাথে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা ক্রেডিট লিমিটেড সরাসরি যুক্ত নয়। অনলাইন অফলাইন কেনাকাটা, ভ্রমণ বিভিন্ন  বিল পরিশোধ করা, দেশ-বিদেশি যেকোনো ভিসা গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানে পেমেন্ট করা যায়।

সুবিধা ও কার্ড এর মান অনুযায়ী ভিসা কার্ড আরো কিছু ক্যাটাগরির হয়ে থাকে যেমন

  • ভিসা ভার্চুয়াল কার্ড
  • ভিসা বিজনেস কার্ড
  • ভিসা ক্লাসিক কার্ড
  • ভিসা প্লাটিনাম কার্ড
  •  ভিসা সিগনেচার কার্ড। 

ভিসা কার্ড কিভাবে করতে হয়

ভিসা কার্ড পাওয়ার জন্য সবথেকে সহজ উপায় হলো আপনাকে যেকোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক যেমনঃ ইসলামী ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, ডাচ বাংলা ব্যাংক ইত্যাদি এইসব ব্যাংকে আপনাকে সেভিং একাউন্ট খুলতে হবে। একাউন্ট খোলার সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জমা দিতে হবে। যেমনঃ এনআইডি কার্ড বা পাসপোর্ট, আপনি চাকরিজীবী না ব্যবসায়ী আপনার আয়ের উৎস পাসপোর্ট সাইজের ছবি, নমিনি তথ্য ইত্যাদি দিতে হবে।

ভিসা কার্ড করতে কত টাকা লাগে

বর্তমান  সময়ে ভিসা কার্ড এর ব্যবহার বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ভিসা। ভিসা কার্ড করতে কত টাকা লাগে এই বিষয়ে অনেকেই জানতে চান। কার্ড করার খরচ আপনার কার্ডের ধরন ও ব্যাংকের নিয়মের উপর নির্ভর করে নির্ধারিত করা হয়। ডেবিট কার্ডের ক্ষেত্রে  সেভিং অ্যাকাউন্টের সাথে এই কার্ড নিতে হলে সাধারণত ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা বাৎসরিক ফি ভ্যাটসহ দিতে হয়।

 তবে অনেক ব্যাংকে প্রথম বছরে ইন্সুরেন্স ফি কিছুটা বেশি হতে পারে সেটা ব্যাংকের উপর নির্ভর করে।ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রথম বছর লাইফ টাইম ফ্রি অথবা ক্যাটাগরি ভেদে ১৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত বাৎসরিক ফি নেওয়া হয়। আবার ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে সরকারের আবগারি শুল্ক প্রয়োজন হতে পারে। 

প্রিপেইড কার্ডের ক্ষেত্রে আপনি যদি পাসপোর্ট অ্যান্ডোরসমেন্ট ছাড়া আন্তর্জাতিক লেনদেনের জন্য ইস্যু করে থাকেন তাহলে প্রিপেইড কার্ডের ইস্যু ফি ও বাৎসরিক ফি বাবদ ১০০০ থেকে ১৫০০ মত খরচ হতে পারে।

ভিসা কার্ড দিয়ে টাকা তোলার নিয়ম

ভিসা ডেভিড বা প্রিপেইড কার্ড দিয়ে এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে পারবেন খুব সহজে

  1. ভিসা লোগো যুক্ত এটিএম বুথে যান
  2. এটিএম বুথের মেশিনে কার্ডের চিপ সোনালী রঙের অংশ উপরের দিকে এবং সামনের দিকে রেখে কার্ড টি প্রবেশ করান 
  3. মেশিনের স্কিনে ভাষা সিলেক্ট করার অপশন আসবে আপনার সুবিধামতো ইংলিশ বা বাংলা ভাষা সিলেক্ট করতে পারবেন
  4. আপনার কার্ডের গোপন ৪ পিন নাম্বারটি কিবোর্ডে টাইপ করুন
  5. মেশিনের স্কিনে অনেক ধরনের অপশন আসবে লেনদেনের ধরন অনুযায়ী সেখানে আপনি টাকা উত্তোলনে অপশনে চাপ দিবেন
  6. একাউন্টের ধরন বা সেভিং অ্যাকাউন্ট নির্বাচন করুন
  7. আপনি কি পরিমান টাকা তুলতে চান মেশিনের স্কিনে থাকা অপশন থেকে বেছে নিন
  8. কনফার্ম চাপুন
  9. প্রথমে মেশিন থেকে আপনার কার্ডটি বের করতে হবে, কার্ড নেওয়ার পর টাকা বের করতে হবে  চাইলে শেষে রশিদ নিতে পারেন। 

ভিসা কার্ড এর জন্য ব্যবসায়ীদের যোগ্যতা

ভিসা কার্ডের জন্য ব্যবসায়ীদের যোগ্যতা মূলত প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্রের উপর যাচাই করে নির্ধারণ করে থাকে যেমনঃ আবেদনকারীর ন্যূনতম বয়স কমপক্ষে ২১ বছর হতে হবে যে ব্যবসা আপনি করছেন ব্যবসাটির বয়স অন্তত দুই বছর সচল থাকতে হবে মাসিক আয়ের ক্ষেত্রে ব্যাংক ভেদে মাসিক আয় ন্যূনতম ৩০,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। 

 ন্যূনতম দুই বছরের পুরনো আপডেট ট্রেড লাইসেন্স, ব্যবসার নামে থাকা কারেন্ট একাউন্ট বা পার্সোনাল একাউন্টে বিগত ৬ থেকে ১২ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট  ,টিন সার্টিফিকেট, আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ, জাতীয় পরিচয় পত্র, দুই কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং বিজনেস ভিজিটিং কার্ড।

 মালিকানা দলিলের ক্ষেত্রে লিমিটেড কোম্পানি হলে মেমোরেন্ডাম অফ অ্যাসোসিয়েশন এবং পার্টনারশিপ ব্যবসা হলে পার্টনারশিপ ডিড দেখাতে হবে। ব্যবসায়ীদের ক্রেডিট কার্ডের জন্য ভালো ব্যাংকিং ইতিহাস থাকা প্রয়োজন তাহলে ভিসা কার্ড পাওয়া সহজ হয়।

ভিসা কার্ডের জন্য চাকরিজীবীদের যোগ্যতা

চাকরিজীবীদের ভিসা কার্ডের যোগ্যতার জন্য সরকারি বেসরকারি স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বা স্থায়ী চাকরিতে কর্মরত থাকতে হবে ব্যাংক ভিসা ক্রেডিট কার্ড এর জন্য একটি ন্যূনতম মাসিক  আয়ের শর্ত নির্ধারণ করে। চাকরিজীবীদের ভিসা কার্ড পাওয়ার জন্য ব্যাংকভেদে মাসিক  ইনকাম ২০,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা হতে হবে ।বয়স সীমা ২১ থেকে ৫৬ বছর এবং বর্তমানে চাকরিতে স্থায়ী হলে ৩ মাস চুক্তিভিত্তিক হলে কমপক্ষে অন্তত ৬ মাসের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

ভিসা কার্ডের জন্য চাকরিজীবীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমনঃ বেতন সনদ বা হালনাগাদ পে-স্লিপ লেটার অফ ইন্ট্রোডাকশন , বেতনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের শেষ ছয৬ মাসের স্টেটমেন্ট , ন্যাশনাল আইডি কার্ডের কপি ই-টিন সার্টিফিকেট আয়কর রিটার্ন জমার কপি ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি, ছবি ২-৩ কপি ছবি, বিদ্যুৎ/ পানি/ গ্যাস বিলের কপি।

 বাংলাদেশের শীর্ষ স্থানীয় ব্যাংকগুলো যেমন ইস্টার্ন ব্যাংক ই বি এল কার্ড, সিটি ব্যাংক ব্র্যাক ব্যাংক বা ডাচ বাংলা ব্যাংক ভিসা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে থাকে আপনার বেতনের বা জমানো অর্থে উপর ভিত্তি করে কার্ডের লিমিট নির্ধারিত করা হয়ে থাকে।

ভিসা কার্ড এর জন্য ফ্রিল্যান্সারদের যোগ্যতা

বর্তমানে বাংলাদেশে অনেক ফ্রিল্যান্সার আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে কাজ করছে, বিদেশি সফটওয়্যার বা টুলসের সাবস্ক্রাইব পরিষদ অনলাইন পেমেন্ট গ্রহণ, আন্তর্জাতিক লেনদেনের জন্য ভিসা কার্ড ফ্রিল্যান্সারদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ভিসা কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা হল বৈধ আয়ের প্রমাণ। ভিসা কার্ড পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ইনফরমেশন আপনাকে ব্যাংকে জমা দিতে হবে ।

যেমনঃ আপনাকে অবশ্যই আগে আবেদন করতে হবে, আপনাকে বাংলাদেশী নাগরিক হতে হবে।
বয়স কমপক্ষে ১৮ হতে হবে, জাতীয় পরিচয় পত্র বা এন আইডি কার্ড বা পাসপোর্ট থাকলে ব্যাংকে দেখাতে হবে।  আপনি যে মোবাইলনাম্বার বা ইমেইল ব্যবহার করছে সেটা দিতে হবে। অনলাইনে আয়ের প্রমাণ দিতে হবে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে বা সরাসরি ক্লাইন্টের কাজ থেকে বিগত ৬-১২ মাসের রেমিটেন্স বা বৈদেশিক মুদ্রা আসার ব্যাংক স্টেটমেন্ট দিতে হবে।

ফ্রিল্যান্সার কার্ডের জন্য অনেক ব্যাংকে একাউন্টের জন্য  গত এক বছরে কমপক্ষে 50 থেকে ১০০  ডলার পর্যন্ত আয়ের রেকর্ড দেখাতে হয়। কাজের চুক্তি মার্কেটপ্লেস এর প্রোফাইল লিংক দিতে হয়। সরকার অনুমোদিত ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড যদি থাকে দিতে হবে হালনাগাদ ই-টিন এবং ট্যাক্স সার্টিফিকেট, আবেদনকারী ও নমিনির সদ্য তুলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি, গ্যাস বিল বা বিদ্যুৎ বিল কপি ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য জমা দিতে হবে।

ভিসা কার্ড কি শিক্ষার্থীরা পেতে পারে?

হ্যাঁ ভিসা কার্ড শিক্ষার্থীরাও পেতে পারে এটি নির্ভর করে তাদের বয়স কার্ডের ধরন ও ব্যাংক
নীতিমালার ওপর। বাংলাদেশে এখন প্রায় সব বড় ব্যাংকে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ভিসা কার্ড দিয়ে থাকে। শিক্ষার্থীরা  ব্যাংকে স্টুডেন্ট সেভিং একাউন্ট খুল খুব কম খরচে বা ফ্রিতে ভিসা ডেবিট কার্ড পেতে পারে। 18 বছরের কম বয়সে শিক্ষার্থীদের জন্য অভিভাবকের তত্ত্বাবধায়নের স্টুডেন্ট একাউন্ট খোলা হয়।

ভিসা ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার জন্য আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ ও নিয়মিত আয়ে প্রমাণ দেখাতে হয়। তাই অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের জন্য ডেবিট কার্ড বা প্রিপেইড কার্ড পাওয়া তুলনামূলক সহজ হবে। শিক্ষার্থীদের যেসব কাগজপত্র ব্যাংকে দেখাতে হবে জাতীয় পরিচয় পত্র বা বা জন্ম নিবন্ধন কপি , ভর্তির প্রমাণ বা শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড পাসপোর্ট সাইজের ছবি শিক্ষার্থী অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে অভিভাবকদের এন আই ডি কার্ড লাগবে।

ভিসা কার্ডের সুবিধা

ভিসা কার্ড আন্তর্জাতিক পেমেন্টে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পেমেন্ট কার্ড। বিশ্বের ২০০টির বেশি  দেশে অনলাইনের মাধ্যমে নিরাপদে ও সহজে ভিসা কার্ড দিয়ে লেনদেন করতে পারবেন। ভিসা কার্ডের মাধ্যমে বিশ্বের ২ মিলিয়নের বেশি এটিএম থেকে টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। শপিংমলে  মেশিনের মাধ্যমে বিল পরিশোধ, বিমানের টিকিট, এটিএম থেকে টাকা উত্তোলন, হোটেল বুকিং নগদ টাকা বহনের ঝামেলার ছাড়াই কার্ড এর মাধ্যমে সহজে করা যায়।

ভিসা কার্ডের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতায় বিশ্বের যেকোন স্থানে ভিসা লোগো রয়েছে সেখানেই পেমেন্ট করতে পারবেন। আধুনিক এনক্রিপশন ও ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা হয। আপনি দেশের বাইরে গিয়ে বিপদে পড়লে ইমার্জেন্সি ক্যাশ ডিসবার্সমেন্ট এবং ইমারজেন্সি কার্ড রিপ্লেসমেন্টের মত সুবিধা পাবেন। ভ্রমণের সুবিধার্থে আন্তর্জাতিক কার্ডগুলোর মাধ্যমে বাৎসরিক ট্রাভেলের কোটাই ডোলারে লেনদেন করা যায। 

ভিসা কার্ডে কি কি সমস্যা হতে পারে?

ভিসা কার্ড ব্যবহারে গ্রাহকদের সাধারণত যে সমস্যাগুলো হয়ে থাকে আন্তর্জাতিক লেনদেনের সীমাবদ্ধতা, কার্ড ডিক্লাইন বা বাতিল হওয়া, একাউন্ট থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত চার্জ কাটা, চুরি হওয়া বা কার্ড হারিয়ে যাওয়া। ভিসা কার্ডে ই-কমার্স ট্রানজেকশন বা ইন্টারন্যাশনাল ট্রানজেকশন চালু না থাকলে অনলাইনে কেনাকাটা করা যায় না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বার্ষিক ডাটা লিমিটেড শেষ হয়ে গেলে অনেক সময় কার্ড বিদেশে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।

ভিসা কার্ডের বার্ষিক ফি, এটিএম উত্তোলন ফি, নবায়ন ফি, অন্যান্য অতিরিক্ত চার্জ  কেটে নেওয়া হয়, যা গ্রাহক অনেক সময় জানতে পারে না। আবার কার্ডের মেয়াদ ভুল দিলে ট্রানজেকশন ব্লক হয়ে যেতে  পারে। কাটে অপর্যাপ্ত ব্যালেন্স, মার্চেন্ট সাপোর্ট না করা, কার্ড দীর্ঘমেয়াদী হয়ে গেলে পেমেন্টে ব্যর্থ হয়। ভিসা কার্ড সব জায়গায় গ্রহণ হয় না। অনেক ওয়েবসাইটে ও দোকানে ভিসা কার্ড গ্রহণ করা হয় না।

উপসংহার

ভিসা কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নয়,ব্যাংকের নির্ধারিত নীতিমালা শর্ত আবেদনকারীর পরিচয় পত্র বয়স, আয়, সঠিক ঠিকানা প্রমাণ, কাজের স্থায়িত, আয়ের সুনির্দিষ্ট উৎস আর্থিক সক্ষমতা উপর নির্ভর করে ব্যাংক সব যাচাই বাছাই করে গ্রাহককে ভিসা কার্ড দিয়ে থাকে। ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে আয়ের সুনির্দিষ্ট উৎস দেখানো জরুরী। ডেবিট কার্ডে সাধারণত ব্যাংক একাউন্ট থাকলে আবেদন করতে পারবেন। দীর্ঘমেয়াদি স্মার্ট ও নিরাপদ আর্থিক লেনদেন জন্য সঠিক কার্ড নির্বাচন করা প্রয়োজন।










এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

জেনোভা আইটি নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url