ভিসা কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা
অনলাইনে লেনদেনের বর্তমান সময়ে ভিসা কার্ড অত্যন্ত জনপ্রিয়, বিদেশে ভ্রমণ বা ব্যবসা,ফ্রিল্যান্সের অর্থ গ্রহণ ও পরিশোধ করা , আন্তর্জাতিক কেনাকাটা ভিসা কার্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লেনদেনের মাধ্যমে। প্রতিদিন বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ মানুষ ভিসা কার্ড ব্যবহার করে। ভিসা কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন সহজ ও নিরাপদ। বাংলাদেশে এখন অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ব্যাংক ভিসা ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, প্রিপেড কার্ড দিয়ে থাকে।
আপনি যদি ভিসা কার্ড সম্বন্ধে জানতে চান ভিসা কার্ড কি? ভিসা কার্ড
পাওয়ার যোগ্যতা? ভিসা কার্ড কত প্রকার? ভিসা কার্ডের সুবিধা ও অসুবিধা
,ভিসা কার্ড কিভাবে করতে হয়? তার বিভিন্ন ইনফরমেশন আমি এই পোস্টে আপনাদেরকে
দেব।
পোস্ট সূচিপত্রঃ ভিসা কার্ড পাওয়ার যোগ্যত
- ভিসা কার্ড কি
- ভিসা কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা
- ভিসা কার্ড কত প্রকার
- ভিসা কার্ড কিভাবে করতে হয়
- ভিসা কার্ড করতে কত টাকা লাগে
- ভিসা কার্ড দিয়ে টাকা তোলার নিয়ম
- ভিসা কার্ড এর জন্য ব্যবসায়ীদের যোগ্যতা
- ভিসা কার্ডের জন্য চাকরিজীবীদের যোগ্যতা
- ভিসা কার্ড এর জন্য ফ্রিল্যান্সারদের যোগ্যতা
- ভিসা কার্ড কি শিক্ষার্থীরা পেতে পারে?
- ভিসা কার্ডের সুবিধা
- ভিসা কার্ডে কি কি সমস্যা হতে পারে?
- উপসংহার
ভিসা কার্ড কি
ভিসা কার্ড হল আন্তর্জাতিক ইলেকট্রনিক পেমেন্ট কার্ড যা ভিসা পেমেন্ট প্রযুক্তি
ব্যবহার করে পরিচালিত হয় ব্যাংক সরাসরি ভিসা কার্ড প্রদান করেনা ব্যাংক বা
আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজস্ব গ্রাহকদের জন্য ভিসা নেটওয়ার্কের ভিসা
কার্ড ইস্যু করে থাকে ভিসা কার্ড দিয়ে আপনি এটিএম থেকে টাকা উত্তোলন বিল পরিশোধ
অনলাইন ও অফলাইনে কেনাকাটা আন্তর্জাতিক লেনদেন করতে পারবেন।
ভিসা কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা
ভিসা কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা সাধারণত ভিসা কার্ডের ধরন(ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেড)ও
ব্যাংক নীতির উপর নির্ভর করে। ভিসা ডেভিড কার্ড পেতে হলে যে কোন ব্যাংকে একটি
একাউন্ট খুলতে হবে। তবে ভিসা ক্রেডিট কার্ড পেতে আপনাকে বিভিন্ন ইনফরমেশন দিতে হবে
যেমনঃ গ্রাহকের বয়স এবং ব্যাংকের বিভিন্ন শর্ত পূরণ করতে হবে।
ভিসা ডেবিট কার্ড এর জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র যেমনঃ পাসপোর্ট সাইজ ছবি, ব্যাংক একাউন্ট খোলা প্রাথমিক জমা, জাতীয় পরিচয় পত্র বা বৈধ পাসপোর্ট, বাংলাদেশে বৈধ নাগরিক এসব ইনফরমেশন দিতে হবে। ডেবিট কার্ডের জন্য সাধারণত ১৮ বছর বা তার বেশি হতে হবে তবে ব্যাংক ভেদে বিভিন্ন হতে পারে। ডেবিট কার্ডের জন্য ব্যাংক হিসাব সঞ্চয় বা চলিত থাকতে হবে।
সচরাচর প্রশ্ন
অনলাইনে ভিসা কার্ড করা যায়?
অনইনে করা যাই
ভিসা কিভাবে পাওয়া যায়?
অনলাইনে পাওয়া যাই
ভিসা কার্ড করতে কত টাকা লাগে?
টাকার উপর নিরভর করে
Visa card করতে কি কি লাগে?
ছবি লাগে
ভিসা করতে সাহায্য লাগে
হা লাগে
ক্রেডিট কার্ডের জন্য নিয়মিত আয় উৎস থাকতে হবে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, টিআইএন, বেতন স্লিপ, ও অন্যান্য আয়ের প্রমাণপত্র লাগাতে হবে। প্রিপেইড কার্ড ক্ষেত্রে কিছু কিছু ব্যাংক একাউন্ট ছাড়া কার্ড ইস্যু করে থাকে আবেদনের পর ব্যাংক যাচাই-বাছাই করে যোগ্য মনে করলে ভিসা কার্ড ইস্যু করে।
ভিসা কার্ড কত প্রকার
ভিসা কার্ড সুবিধা ও কার্যকারিতার উপর ভিত্তি করে তিন ভাগে বিভক্ত
ভিসা ডেবিট কার্ড, ভিসা ক্রেডিট কার্ড, ভিসা প্রিপেইড কার্ড।
ভিসা ডেভিড কার্ডঃ ভিসা ডেভিড কার্ড হল আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি টাকা ব্যবহার করতে পারবেন। লেনদেন কেনাকাটার সময় সঙ্গে সঙ্গে আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়া হবে শপিং মল, সুপার শপ,দোকানে পেমেন্ট,অনলাইন শপিং, এটিএম থেকে টাকা তোলা, মোবাইল রিচার্জ এবং ইন্টারনেট বিল পরিশোধ করতে পারবেন। ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী দেশ-বিদেশের ভিসা লোগোযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভিসা কার্ড পেমেন্ট করা যায়, ভিসা ডেবিট কার্ড ব্যবহারে অর্থ বহনে ঝামেলা থাকে না।
ভিসা ক্রেডিট কার্ডঃ ভিসা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে আপনি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নির্ধারিত পরিমাণ ক্রেডিট লিমিটেড থেকে টাকা ধার করে বিল পরিশোধ করা, অনলাইনে কেনাকাটা ও লেনদেন করতে পারবেন। ক্রেডিট কার্ড আপনার ব্যাংক একাউন্ট থেকে সরাসরি টাকা ব্যবহার করে না, ব্যাংক আপনাকে নির্দিষ্ট পরিমাণে ঋণ দেয় এবং পরে নির্ধারিত সময়ে সেটা পরিশোধ করতে হয়।
হোটেল বুকিং, বিমানের টিকিট ভাড়া, দেশ-বিদেশ ভ্রমণ, অনলাইন শপিং, সুপার শপ, শপিং মল ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা হয়। জরুরী প্রয়োজনে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা
হয় অনেক সময় ক্যাশব্যাক রিওয়ার্ড পয়েন্ট ও বিশেষ ছাড়ের সুবিধা
থাকে।
ভিসা প্রিপেইড কার্ডঃ এই কার্ডটি হল প্রি-লোডেড পেমেন্ট কার্ড। ভিসা
প্রিপেইড কার্ড ব্যবহারের আগে কিছু নির্দিষ্ট পরিমাণে টাকা জমা করতে হয় কার্ডে
যত টাকা জমা থাকবে ততটুকুই শুধু খরচ করা যায়। এই কার্ডের সাথে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট
বা ক্রেডিট লিমিটেড সরাসরি যুক্ত নয়। অনলাইন অফলাইন কেনাকাটা, ভ্রমণ বিভিন্ন বিল পরিশোধ করা, দেশ-বিদেশি যেকোনো ভিসা গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানে পেমেন্ট করা
যায়।
সুবিধা ও কার্ড এর মান অনুযায়ী ভিসা কার্ড আরো কিছু ক্যাটাগরির হয়ে থাকে
যেমন
- ভিসা ভার্চুয়াল কার্ড
- ভিসা বিজনেস কার্ড
- ভিসা ক্লাসিক কার্ড
- ভিসা প্লাটিনাম কার্ড
- ভিসা সিগনেচার কার্ড।
ভিসা কার্ড কিভাবে করতে হয়
ভিসা কার্ড পাওয়ার জন্য সবথেকে সহজ উপায় হলো আপনাকে যেকোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক
যেমনঃ ইসলামী ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, ডাচ বাংলা ব্যাংক ইত্যাদি এইসব ব্যাংকে আপনাকে সেভিং একাউন্ট
খুলতে হবে। একাউন্ট খোলার সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জমা
দিতে হবে। যেমনঃ এনআইডি কার্ড বা পাসপোর্ট, আপনি চাকরিজীবী না ব্যবসায়ী আপনার
আয়ের উৎস পাসপোর্ট সাইজের ছবি, নমিনি তথ্য ইত্যাদি দিতে হবে।
ভিসা কার্ড করতে কত টাকা লাগে
বর্তমান সময়ে ভিসা কার্ড এর ব্যবহার বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ভিসা। ভিসা কার্ড করতে কত টাকা লাগে এই বিষয়ে অনেকেই জানতে চান। কার্ড করার খরচ আপনার কার্ডের ধরন ও ব্যাংকের নিয়মের উপর নির্ভর করে নির্ধারিত করা হয়। ডেবিট কার্ডের ক্ষেত্রে সেভিং অ্যাকাউন্টের সাথে এই কার্ড নিতে হলে সাধারণত ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা বাৎসরিক ফি ভ্যাটসহ দিতে হয়।
তবে অনেক ব্যাংকে প্রথম বছরে ইন্সুরেন্স ফি কিছুটা বেশি হতে পারে সেটা ব্যাংকের উপর নির্ভর করে।ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রথম বছর লাইফ টাইম ফ্রি অথবা ক্যাটাগরি ভেদে ১৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত বাৎসরিক ফি নেওয়া হয়। আবার ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে সরকারের আবগারি শুল্ক প্রয়োজন হতে পারে।
প্রিপেইড কার্ডের ক্ষেত্রে আপনি যদি পাসপোর্ট অ্যান্ডোরসমেন্ট ছাড়া আন্তর্জাতিক লেনদেনের জন্য ইস্যু করে থাকেন তাহলে প্রিপেইড কার্ডের ইস্যু ফি ও বাৎসরিক ফি বাবদ ১০০০ থেকে ১৫০০ মত খরচ হতে পারে।
ভিসা কার্ড দিয়ে টাকা তোলার নিয়ম
ভিসা ডেভিড বা প্রিপেইড কার্ড দিয়ে এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে পারবেন খুব
সহজে
- ভিসা লোগো যুক্ত এটিএম বুথে যান
- এটিএম বুথের মেশিনে কার্ডের চিপ সোনালী রঙের অংশ উপরের দিকে এবং সামনের দিকে রেখে কার্ড টি প্রবেশ করান
- মেশিনের স্কিনে ভাষা সিলেক্ট করার অপশন আসবে আপনার সুবিধামতো ইংলিশ বা বাংলা ভাষা সিলেক্ট করতে পারবেন
- আপনার কার্ডের গোপন ৪ পিন নাম্বারটি কিবোর্ডে টাইপ করুন
- মেশিনের স্কিনে অনেক ধরনের অপশন আসবে লেনদেনের ধরন অনুযায়ী সেখানে আপনি টাকা উত্তোলনে অপশনে চাপ দিবেন
- একাউন্টের ধরন বা সেভিং অ্যাকাউন্ট নির্বাচন করুন
- আপনি কি পরিমান টাকা তুলতে চান মেশিনের স্কিনে থাকা অপশন থেকে বেছে নিন
- কনফার্ম চাপুন
- প্রথমে মেশিন থেকে আপনার কার্ডটি বের করতে হবে, কার্ড নেওয়ার পর টাকা বের করতে হবে চাইলে শেষে রশিদ নিতে পারেন।
জেনোভা আইটি নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url